| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

৫ বছরে ফেনীতে পরীক্ষার্থী কমেছে ৪০!

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 21-04-2026 ইং
  • 655 বার পঠিত
৫ বছরে ফেনীতে পরীক্ষার্থী কমেছে ৪০!
ছবির ক্যাপশন: ৫ বছরে ফেনীতে পরীক্ষার্থী কমেছে ৪০!


নুর উল্লাহ কায়সার: 

২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর থেকে ফেনীতে প্রতি বছরই কমছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। পরবর্তীতে ২০২২ সালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ পরীক্ষায় ফেনীতে ৩৭ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও সেই সংখ্যা ক্রমন্বয়ে নিম্নমুখী হতে হতে ২০২৬ সালে তা দাড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৯ জনে। অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে ফেনীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজার ৯৯৬ জন। জেলায় দিনদিন জনসংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নমুখী হওয়ায় তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। কোভিডকালীন শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না পারায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত নিম্নমূখী রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেকেই বলছেন, করোনার সময়ে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শিশু শ্রম ও অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ে। পরে স্কুল চালু হলেও তাদেরকে প্রতিষ্ঠানে ফেরানোর কার্যত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওই সময়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাচ এখন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক স্টার লাইন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফেনীতে অন্তত ২৫ হাজার শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে এমন তথ্য উঠে আসার পরও প্রশাসন নিরব ভুমিকায় থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যায় উর্ধ্বমুখিতা সৃষ্টি করা যায়নি। ৫ বছরের মাথায় পরীক্ষার্থীর নিম্নমুখিতার সূচক দাঁড়ায় ৪০ দশমিক ৪৩ ভাগে। 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষন করে যানা যায়, ২০২২ সালে ফেনীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থী ছিলো ৩৭ হাজার ৮৫ জন। কিন্তু ২০২৩ সালে ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাড়ায় মাত্র ২৪ হাজার ৬শ জনে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীর নিম্নমুখিতা জেলাকে আকড়ে ধরে। ২০২৪ সালে জেলায় ২৪ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ২০২৫ সালে অংশ নেয় ২৩ হাজার ৬০৯ জন। যা চলতি বছরে নেমে এসেছে ২২ হাজার ৮৯ জনে। বছরের পর বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নমুখী হওয়ায় জেলায় শিক্ষার হারে নিম্নমুখীতা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা? তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। 

তবে জেলার সচেতন মহল বলছে, করোনার পর প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা বিভাগ অথবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি। যদি শিক্ষা বিভাগ অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতো, তাহলে জেলায় শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার হার অনেক কমে যেতো।  

জেলা প্রশাসন জানায়, এবার ফেনীর ৩৬টি কেন্দ্রে সর্বমোট ২২ হাজার ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তন্মধ্যে এসএসসিতে ১৪ হাজার ৯৪৩ জন, দাখিলে ৫ হাজার ৯৭৭ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে ১ হাজার ১৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। আর মাদ্রাসা বোর্ডের প্রথম দিনে কুরআন মাজিদের পরীক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে শুরু হওয়া পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ মে। 

ফেনীতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৩মার্চ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভিজিলেন্স টিম গঠন, ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, পরিদর্শক নিয়োগ, আসন বিন্যাস, মেডিকেল টিম গঠন, যানজট নিরসন ও কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন, পুলিশ ফোর্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে জেলার সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ফেনীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে।  প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলার বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের এ সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। 


কোভিডকালীন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নমূখি করেছে

 - শিক্ষা বিভাগ 

এ বিষয়ে ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, প্রবাসী উদ্যোসিত ফেনীতে শিক্ষার্থীদেরকে এসএসসি পাশ করানোর আগেই প্রবাসে প্রেরণের প্রস্তুুতি হিসেবে কর্মে নিয়োজিত করেন অভিভাবকরা। এর একটি বড় প্রভাব পরীক্ষার্থীর সংখ্যার উপর পড়েছে। তাছাড়া এখন যারা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারা করোনাকালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছিলো। করোনার পর স্কুল খোলা হলেও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনুপস্থিত হয়ে পড়ে। অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টানে। এতে করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়। যার প্রভাব এখন পর্যন্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার উপর রয়ে গেছে।


কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস ডিসির

নানা কারণে ফেনীতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে পারে বলে মনে করেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক। তিনি দৈনিক স্টার লাইনকে বলেন, করোনা মহামারীকালে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। সেই ঝরে পড়ার হারের প্রভাব এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। এছাড়াও ফেনীতে আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা, কাওমী অথবা নূরানী মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের ঝোক এবং অভিভাবকদের মাঝে প্রবাসমুখিতা থাকায় ফেনীতে দিনদিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে পারে। ফেনীতে পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।     

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group