| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর ৮ বছরেও সচল করা যায়নি!

রিপোর্টারের নামঃ Reporter
  • আপডেট টাইম : 09-06-2026 ইং
  • 84265 বার পঠিত
ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর  ৮ বছরেও সচল করা যায়নি!
ছবির ক্যাপশন: ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর ৮ বছরেও সচল করা যায়নি!



পিনু সিকদার, ছাগলনাইয়া

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ বছর আগে স্থাপন করা ১০ কেবি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জেনারেটর এখনো সচল করা যায়নি। বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র চালাচালি হলেও তা সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যার কারণে তীব্র তাপদাহ অথবা রাতের বেলায় বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ের সময় গরমে ও অন্ধকারে সেবাগ্রহিতাদের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। অনেকটা বিপর্যস্ত পরিবেশের মধ্য দিয়েই সেবা গ্রহন-প্রদান হয়ে থাকে উপজেলা পর্যায়ের এ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে। নানা চেষ্টা তদ্বির করেও জেনেরেটরটি সচল করতে না পারায় কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহিতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

জানা যায়, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার প্রান্তিক জনপদের লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান ৫০ শয্যা বিশিষ্ট্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে উটডোর সেবা, ইনডোর সেবা, সার্জারি, সিজার, এঙ্রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি সেবাসহ ৫০ শয্যার হাসপাতাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে অতীব গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের জন্য ১০ শয্যার হাই ডিপেন্ডেন্স ইউনিট (এইচডিইউ) রয়েছে। হাসপাতালে আগত রোগীদের সঙ্গে থাকা বাচ্চাদের খেলাধূলা ও বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে কিড্স জোন। রয়েছে পুরুষ, মহিলা, শিশু ও গাইনী ওয়ার্ড। স্বল্প পরিসরে রাখা হয়েছে কেবিনও। ২০২৩ সালে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাসহ নানা সূচকে এগিয়ে থাকায় মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত র‌্যাংকিংয়ে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্টি দেশ সেরা তালিকায় শীর্ষ স্থান অধিকার করে। এতো বড় অর্জনের পরও হাসপাতালটির উন্নয়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উধাসিনতা সেবাগ্রহিতা ও সচেতন মহলকে অবাক করে তুলেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে লোডশেডিং থেকে বাঁচতে ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ১০ কেভি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল চালিত একটি জেনারেটর স্থাপন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কথা ছিলো এটি চালু হলে হাসপাতালে লোডশেডিংয়ের সময়ে অন্ধকার ও তীব্র গরমের সময়ে রোগীদের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা যাবে। কিন্তুু এই জেনারেটরটি স্থাপনের পর ৮টি বছর অতিক্রম হলেও এখনো এটি সচল করা যায়নি। এই জেনারেটরের আলোতে এক দিনের জন্যও আলোকিত করা যায়নি উপজেলার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবার এ প্রতিষ্ঠানটি। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে ২০১৮ সালে এটি স্থাপনের পর জেনারেটরটি সচল করার জন্য কারিগরি টিম এসে ব্যর্থ হয়। তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিহাব উদ্দিন জেনারেটরটি সচল করতে ২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী, ৮ মে ও ১৭ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিকস কমিউনিটি বেইজ হেলথ কেয়ার এর প্রোগ্রাম ম্যানেজারকে চিঠি দিলেও কোন সুরাহ হয়নি। পরে ডাক্তার মো. শোয়েব ইমতিয়াজ যোগদানের পর ২০২০ সালের ২৭ জুলাই, ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারী ফের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র দিয়ে সেবাগ্রহিতা ও হাসপাতালের সার্ভিসের স্বার্থে জেনারেটরটি চালুর ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানানো হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানের পর ডাক্তার আবু তাহের পাটোয়ারী দায়িত্বগ্রহনের পর ফের একাধিকবার চিঠি দিয়ে জেনারেটরটি সচল করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু এতোবার চিঠি চালাচালির পরও অদৃশ্য কারণে জেনারেটর মেশিনটি চালুর উদ্যোগ নেয়নি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। 

সেবাগ্রহিতারা জানান, সম্প্রতি ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতালের সকল ওয়ার্ডের সিলিং ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাল্বগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তখন আগত সেবাগ্রহিতা ও রোগীদের দূর্ভোগের শেষ থাকে না। অন্ধকারে-গরমে ভর্তি থাকা শিশু ও বয়স্কদের হাঁসফাঁস শুরু হয়। নাভিশ্বাস ও বিষন্নতায় পড়েন রোগী ও স্বজনরা। দায়িত্বপালন কঠিন হয়ে যায় চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্যদের।  

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ফ্যান ও লাইট বন্ধ থাকে। ফলে তীব্র গরম ও অন্ধকারে রোগীরা হাঁসফাস করতে থাকেন। জেনারেটর নষ্ট। তাই বিদ্যুৎ গেলে জেনারেটরও চালু করা হয় না। 

গৃহবধূ সাহেদা আক্তার জানান, গত কয়েকদিন যাবত তিনি তার ২ বছর বয়সী সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রাতের বেলায় বিদুৎ না থাকলে পুরো ওয়ার্ডে একটি মাত্র লাইট জ্বলে। সেই আলোতে তেমন কিছু দেখা যায়না। তাই ঔষুধ কেনার টাকা দিয়ে চার্জ লাইট কিনে আলোর সমস্যা সমাধান করেছি। কিন্তুু ফ্যানের জন্যতো কোন ব্যবস্থা করতে পারিনি। বিদ্যুৎ গেলেই ছেলেটা অসহ্য গরমে চিৎকার দিয়ে ওঠে। বাচ্চাদের কান্নাকাটিতে ওয়ার্ডে থাকাটাই মুশকিল হয়ে পড়ে। রাতের বেলায় লোডশেডিং হলে কেউ ঘুমাতে পারেনা। 

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু তাহের পাটোয়ারী বলেন, ২০১৮ সালে জেনারেটরটি স্থাপনের পর থেকেই এটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২/৩ বার টিম এসেও এটি সচল করতে পারেনি। আমি যোগদানেও পরও উর্ধ্বতনদের দৃষ্টিতে আনতে চিঠি দিয়েছি। কিন্তুু কোন সুরাহা হচ্ছেনা। বিষয়টি ফেনী-১ আসনের এমপি মহোদয়কেও অবহিত করেছি। জনস্বার্থে জেনারেটরটি সচল করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডেইলি ষ্টার লাইন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ICT- Starline Group