জুবায়ের আল মুজাহিদ:
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নে চলমান নদীভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকায় কর্মরত এক শ্রমিককে ইউনিয়ন তহসিলদারের কথা বলে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১ নম্বর চর মজলিশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে জুরুরী ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দে নদীভাঙন রোধের কাজ চলছে। এর মধ্যে চান্দলা ও বিষ্ণুপুর এলাকায় চলমান কাজে বিএনপি নেতা ওমর ফারুক ও তাঁর অনুসারীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ ছাড়া গত রোববার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানি এলাকায় কাজ চলাকালে বিপ্লব নামের এক শ্রমিককে তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, তাঁকে ইউনিয়ন তহসিলদারের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক অপেক্ষার পর প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এখন বিভিন্ন বাধার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাজ বন্ধ থাকলে নতুন করে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ওমর ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী বাইরে থেকে বালু আনার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, নদীর এক পাশ থেকে বালু তুলে অন্য পাশে ফেলা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আমির হোসেন দুলাল বলেন, “নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজে বাধা দিচ্ছেন এবং শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন।”
শ্রমিককে তুলে নেওয়ার ঘটনায় বক্তব্য জানতে চর মজলিশপুর ইউনিয়নের তহসিলদার আব্দুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিম বলেন, “শ্রমিক তুলে নেওয়া বা কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যাল চাকমা বলেন, “নদীভাঙন রোধে ওই এলাকায় কিছু কাজ চলছে। কাজ বন্ধ বা শ্রমিক সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “জরুরি নদীভাঙন রোধ প্রকল্পে নদী থেকেই বালু সংগ্রহ করে জিওব্যাগে ব্যবহার করার বিধান রয়েছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তহসিলদারের কথা বলে শ্রমিককে তুলে নেয়া হয়
চর মজলিশপুর ইউনিয়নের ছয়ানি এলাকার নদীভাঙন রোধ প্রকল্পে কর্মরত বিপ্লব নামের এক শ্রমিককে কর্মস্থল থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত রোববার কাজ চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ইউনিয়ন তহসিলদারের কথা বলে তাঁকে নিয়ে যান। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শ্রমিককে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে কাজের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে এবং অন্য শ্রমিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে ওমর ফারুক দাবি করেন, প্রকল্পের কাজের বিষয়ে তথ্য জানার জন্য শ্রমিককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কাজ অব্যাহত রাখার দাবী এলাকাবাসীর
চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চান্দলা, বিষ্ণুপুর ও ছয়ানি এলাকার বাসিন্দারা নদীভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাজ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করুক। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়বে সাধারণ মানুষ।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জরুরি নদীভাঙন রোধ কার্যক্রমে নদী থেকেই বালু সংগ্রহ করে জিওব্যাগে ব্যবহার করা নিয়মের মধ্যে পড়ে।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দূর, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কাজের মান তদারকিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |