পরশুরাম প্রতিনিধি:
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় সাপের ছোবলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে শাফায়েত হোসেন রাফাত নামে তিন বছরের এক শিশু।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর টেটেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও আনসার সদস্যরা তাকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শাফায়েত হোসেন রাফাত উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবদুল আজিজ রুবেলের ছেলে। তাদের বাড়ি কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের পাশে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরে খেলছিল শিশু রাফাত। হঠাৎ সে চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘সাপ! সাপ!’ শিশুর চিৎকার শুনে তার মা দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। তবে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সাপ দেখতে পাননি তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর রাফাতের বাম উরুর একটি অংশ ফুলে গিয়ে কালচে রং ধারণ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, শিশুটিকে কোনো সাপ ছোবল দিয়েছে।
পরে দ্রুত তাকে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাফাতের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। সে বারবার বমি করতে থাকে এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাস কমে আসে। একপর্যায়ে তার কণ্ঠস্বরও ক্ষীণ হয়ে যায়।
শিশুটির সংকটাপন্ন অবস্থায় পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও আনসার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। হাসপাতালে থাকা অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে রাফাতের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিশুটির জেঠা, যিনি পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের একজন, রাফাতকে জড়িয়ে ধরে বারবার কাঁদছিলেন এবং শিশুটিকে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছিলেন। বাবা-মায়ের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশও ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকের চোখেও পানি চলে আসে।
রাফাতের পরিবারের সদস্যরা তার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি মহান আল্লাহর রহমতে ছোট্ট রাফাত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা স্বজন ও স্থানীয়দের।
ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরপরই সাপে কাটার বিষক্রিয়া লক্ষন শনাক্ত হলে তাকে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে অ্যান্টিভেনম ২য় ডোজ দেয়ার পর অবস্থার অবনতির দিকে গেলে সেখান থেকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪.৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.০০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৫০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৩০ মিনিট দুপুর |